অনুপ্রেরণা ও অনুপ্রাণিত
বিজ্ঞান শিক্ষা শিল্প সংস্কৃতির জগতে এমনকি স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালির অবদান অনেক।দুচোখ ভরা তাঁর স্বপ্ন।সেই স্বপ্নকে রূপ দিতে বাঙালি হাঁটেনি,দৌড়েছে।ঊনিশের ক্ষুদিরাম একুশের সুকান্ত বিনয় বাদল দীনেশ থেকে বিজ্ঞান সাহিত্য ক্রীড়া সব ক্ষেত্রে বাঙালির নিজের স্বপ্নপূরণের যে নিস্ঠা তা ভেবে গর্বিত হই।আজকের দিনে আজকের স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েদের মধ্যে এক প্রাণহীনতা আমাকে অবাক করে।তারা তিতি বিরক্ত অথচ এমন নয় যে ভীষণ পড়াশোনার চাপ।তারা ভালো কথার চাইতে মন্দ কথা মন্দ আলোচনায় বেশি আগ্রহী।ভালো কে সহ্য হয় না, কিসে নিজেদের ভালো তাও জানে না।সমাজ থেকে ভালো হবার ভালো মানুষ হবার প্রেরণা হারিয়ে যাচ্ছে।তারা অনুসরণ করার মত কাউকে পাচ্ছে না।বহুদূর থেকে শিক্ষকতা করতে গিয়ে সিলেবাস শেষ করার চাপে শিক্ষককুল প্রেরণার উৎসাহ পান না।আর করতে চাইলেও ছাত্র ছাত্রীরা দৃষ্টিভঙ্গি বলে'এই শুরু হলো'।আজকে ভালো মানুষ বলতে ধনী মানুষকে বোঝানো হয়।অথচ একসময় এই পরিবেশ ছিল না।বাঙালির ঘরে রান্নার চাল ছিল না তবু সে ছিল উদ্দীপ্ত।গ্রামের পাড়ার দাদা দিদিকে দেখে তাদের সাফল্য দেখে সে তাঁর কাছে সাফল্যের প্রেরনা নিতে যেত।কুপির আলোয় পড়ে, রোজ 16 কিমি হেঁটে স্কুল যাওয়া আসা করে আউসাড়া(যোগাযোগবিহীন একটি গ্রাম)থেকে আমেরিকা গেছে এমন একজনকে আমি চিনি।সেদিনের বাংলায় এরাই ছিল নায়ক।আজ তুলনামূলক ভাবে সুযোগ সুবিধা বেড়েছে কিন্ত গ্রাম বাংলার পড়াশোনার পরিবেশ অনেক ক্ষেত্রে নিম্নগামী।এর জন্য অনেকটা দায়ী পাঠক্রম কিন্ত সে একমাত্র দায়ী না।ভালো ছাত্র বই মুখস্ত করলে হওয়া সম্ভব কিন্ত ভালো মানুষ হতে গেলে প্রেরণা প্রয়োজন।সেটার আজ ভীষণ অভাব।পচে যাওয়া এই সমাজে ছাত্রটি কার কাছে প্রেরণা নেবে !স্বার্থপর এই বাংলায় খুব কমজন আছেন যারা উৎসাহ দেবেন।বাবা মা দিনরাত পরিশ্রম করে ছেলে মেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াচ্ছেন কিন্ত সেই বিদ্যালয় তাকে অর্থ রোজগারের মেশিন বানাচ্ছে।একবারও বলছে না সহানুভূতিশীল সৎ নীতিবান মানুষ হও।বাবা মা বলছে পড় শুধু পড়।তাকে কাছে ডেকে তাদের নিজেদের কিংবা পূর্ব পুরুষের জীবনযুদ্ধর কথা বলছে না।15 আগস্ট,23,26 জানুয়ারি ইস্কুল গিয়ে কাজ নাই।টিউশন যা।রোমাঞ্চকর স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা,বিপ্লবীদের কথা শোনার প্রয়োজন নাই!আবেগ আপ্লুত হবে না কিশোর কিশোরী !জীবনে কি শুধু নম্বর চাই !আমাদের চিন্তা ভাবনা 20-20 ক্রিকেট ম্যাচের মত হয়ে গেছে।কিন্ত জীবন টিকে থাকার আঁকড়ে থাকার টেস্ট ম্যাচ।এখানে সব কিছুকে 'ফালতু''সেন্টু'' যত্তসব' 'জ্ঞান''লেকচার'বলে ডাস্টবিনে ফেলে দিও না হে যুবসমাজ।স্বপ্ন দেখতে শেখ,সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সততার পথ,অগ্রজদের উপদেশ এবং দেশ সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবনত হওয়া জরুরি।নীতি নৈতিকতার পিলার জড়িয়ে তৈরি হোক আগামী দিন।পান্তা ভাত পরদিন খাবার মত ভালো রাখতে গেলে জল দিতে হয়।জীবনে সর্বার্থে মানুষ হতে হলে আবেগ শ্রদ্ধা সম্মান প্রেরণার মত জল আপাতভাবে অর্থরোজগারের তাড়নায় মূল্যহীন মনে হলেও ওগুলি ছাড়া জীবন ভাত ভালো থাকতে পারে না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন